আজ ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আনোয়ারার ডেইরি ফার্মে দুর্ধর্ষ ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি, আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

মোঃ সাইফুল ইসলাম আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের একটি ডেইরি ফার্মে সংঘটিত প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকার দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। প্রায় দুই সপ্তাহের তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস, ধারালো ছোরা, তালা কাটার যন্ত্র ও লোহার রড জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া গরুর একজন ক্রেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২ জুলাই আনোয়ারা থানায় দায়ের হওয়া একটি ডাকাতি মামলার তদন্তে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএমের সার্বিক নির্দেশনা এবং আনোয়ারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধানে গত ১৪ জুলাই দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার লাবিবা ক্লাবসংলগ্ন এলাকা থেকে ডাকাত দলের সদস্য ইয়াছিন আরাফাত (২৬) ও আল মামুন তুষার লিটন (৩১)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার দুই আসামির কাছ থেকে সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া চট্টগ্রাম মেট্রো-চ-১১-৪৩৬১ নম্বরের একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। মাইক্রোবাসের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা একটি লোহার ছোরা, একটি তালা কাটার যন্ত্র এবং একটি লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে।পরে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার গরু ব্যবসায়ী মানিক হকসাই মানিক (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া গরু তিনি কিনেছিলেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাত দল বারশত বণিকপাড়া এলাকার ‘দীপক ডেইরি ফার্ম’-এ হামলা চালায়। ডাকাতরা প্রথমে খামারের মালিক দীপক মালাকার, তাঁর স্ত্রী এবং দুই কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে ঘর তছনছ করে নগদ এক লাখ টাকা, প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার এবং খামারে থাকা পাঁচটি গরু লুট করে নিয়ে যায়। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে ডাকাতরা বাড়ি ও খামারে অবস্থান করে নির্বিঘ্নে লুটপাট চালিয়ে পালিয়ে যায়। লুট হওয়া নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গবাদিপশুসহ মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডাকাতদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাস শনাক্ত করা হয়। পরে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত দলের সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালানো হয়।পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার ইয়াছিন আরাফাতের বিরুদ্ধে বান্দরবানের লামা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সীতাকুণ্ড এবং কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়াসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, চুরি ও অস্ত্র আইনে ৯টির বেশি মামলা রয়েছে। অপর আসামি আল মামুন তুষার লিটনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ তিনটির বেশি মামলা রয়েছে।আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুনায়েদ চৌধুরী বলেন, ডাকাতির ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ও বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া গরুর একজন ক্রেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তও চলমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর